এখনও ছাপা হয়নি উচ্চ মাধ্যমিকের বই

text-boardএক মাসেরও বেশি সময় আগে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ শ্রেণীর বই শিক্ষর্থীদের হাতে তুলে দিতে পারেনি  জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কারণ বই ছাপার কাজই এখনও শেষ হয়নি।

তবে আগামী কালকের মধ্যে বই পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃপক্ষের এক সূত্র।

এরই মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীই বাজার থেকে নকল বই কিনে নিয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ বলে, “অন্য উপায় না থাকায় জেনে শুনেই নকল বই কিনেছি।” চলতি বছর প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই বিনামূল্যে পেলেও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে বই কিনতে হয়। শিক্ষাবোর্ড শুধু বাংলা, ইংরেজি ও সম্পূরক বই প্রকাশ করে থাকে। বাকি সব বই বেসরকারি প্রকাশকরা মুদ্রণ করে।

প্রতি বছরই শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার বেশ পরেই বই প্রকাশ করে শিক্ষাবোর্ড। এনসিটিবি সূত্র জানায়, এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণেই বই ছাপাতে বিলম্ব হয়। এনসিটিবির বই ছাপাতে দেরি হলে শিক্ষার্থীরা নকল বই কেনে। আর এতে করে লাভবান হয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

শিক্ষাবোর্ডের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “এনসিটিবির বই বের করতে এক থেকে দুই মাস দেরি হলেই এই ব্যবসায়ীরা নিজেদের বই বিক্রি করে লাভবান হতে পারে। বই যেহেতু বিনামূল্যে দেওয়া হয় না, তাই অভিভাবকরাও মনে করেন কিনে ফেলাই ভালো।”

তিনি আরও বলেন, দেরিতে বের হওয়া এসব বই বিক্রিও হচ্ছে না। ফলে এনসিটিবি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া ইচ্ছাকৃত বিলম্বের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চলতি বছর স্থগিত থাকা একটি মামলার কারণে বই প্রকাশে দেরি হয়েছে।

অন্যান্য বছরের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “বোর্ড সব সময়ই ঠিক সময়ে বই প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু পাণ্ডুলিপি জমা বা অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে দেরি হয়ে যায়।”

ইএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট