দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্ব: মাদরাসায় হামলা-লুট

IMG_2342
ভবন মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের একটি মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, মাদরাসার আলমারিতে রাখা নগদ ৫ লাখ টাকাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে। ঘটনার পর সব শিক্ষার্থীদের বের করে মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকাল পৌনে ৬টায় কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম নবীনগরে জামিয়াতুল আবরার মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার সকাল পৌনে ৬টায় ভবনের মালিক দাবিদার মাওলানা আবদুল হামিদ কাশেমীর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দেড় শতাধিক লোক মাদরাসার ভেতর ঢুকে ২৫ থেকে ৩০ জন ছাত্র-শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তারা আলমারিতে রাখা নগদ ৫ লাখ টাকা, ৫টি মোবাইল সেট, কেন্টিনের লক্ষাধিক টাকার মালপত্র, মূল্যবান কাগজপত্র, বোর্ডিংয়ের চাল, ডাল, হাড়ি-পাতিল ও আইপিএস লুট করে। পরে তারা আল-হেরা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে নদীর তীরে রাখা একটি ট্রলারে করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পরই পুলিশকে খবর দেয়া হলেও তারা আসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর। তারা এসে মাদরাসার প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।

জানা গেছে, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মাহবুবুল হক কাশেমী ও ভবনের দাবিদার মাওলানা আবদুল হামিদ কাশেমী চট্টগ্রামের হাটাজারী মাদরাসায় পড়ালেখা করেছেন। তাই তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়। ১৪/১৫ বছর আগে মাওলানা আবদুল হামিদ কাশেমী কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম নবীনগরে ২ কাঠা জমি কেনেন। পরে বন্ধু মাহবুবের পরামর্শে সেখানে জামিয়াতুল আবরার নামে একটি দোতলা মাদরাসা গড়ে তোলেন। এরপর এলাকার মানুষের সহায়তায় মাদরাসাটি ছয়তলার ভবনজুড়ে ৪৮১ জন ছাত্র, শিক্ষকসহ ২৩ জন স্টাফ রয়েছে। মক্তব থেকে মেশকাত জামাত পর্যন্ত পাঠদান চলে আসছিল এ মাদরাসায়।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মাহবুবুল হক কাশেমী বলেন, ‘২ কাঠা জমির ওপর মাদরাসাটি স্থাপিত। পুরো জায়গাটিই মাদরাসার নামে ওয়াকফ করা। ওই জায়গার মূল মালিক জজ মিয়া, লাট মিয়া ও শামসু মিয়া নামে তিন ভাই। জজ ও শামসু মাদরাসার নামে জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। লাট মিয়ার অংশের কিছু জমি হামিদ কিনে নেন। তাই তিনি পুরো জমির মালিকানা দাবি করেন। যা অযৌক্তিক। বেশ কিছুদিন ধরে হামিদ ভবন থেকে মাদরাসা সরিয়ে নিতে বলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে দিয়েও ভবন ছেড়ে দিতে চাপ দেন হামিদ। এ নিয়ে বিরোধেই তিনি তার শালা মাকসুদকে দিয়ে লোকজন পাঠিয়ে মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন। মাদরাসার এ জমি নিয়ে তিনটি মামলায় আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে।’

এ বিষয়ে ভবন মালিক দাবিদার মাওলানা আবদুল হামিদ কাশেমী জানান, ভবনটির মূল মালিক তিনি। মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভাড়া দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ভাড়া দিচ্ছে না। এ বিষয়ে তাদেরকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করা হয়। তারা স্থানীয় এমপির কাছে অভিযোগ করেন। এমপি সাহেবও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ভবন ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। তারপরও তারা ভবন ছাড়ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাদরাসায় হামলার ঘটনায় তার কোনো লোক জড়িত নেই। এলাকার লোকজনই হামলা করেছে।

কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই রায়হান আহমেদ জানান, দু’পক্ষকেই তাদের কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনও কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়নি।

পছন্দের আরো পোস্ট