ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা বেতন নির্ধারণে নীতিমালা হচ্ছে

english mediamঅবশেষে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও কলেজগুলোর বিভিন্ন ধরনের বেতন নির্ধারণে নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ওই নীতিমালা আদালতে জমা দিয়েছে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, শিগগির এটি চূড়ান্ত করা হবে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তি ফরম এবং ভর্তির ফি বাবদ সরকারের নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করা হলে নিবন্ধন বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাবে। ১৯৬২ সালের ২০ নম্বর অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিবন্ধন নেয়া সব স্কুল এবং স্কুল ও কলেজের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা কার্যকর হবে বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় স্কুলগুলোকে শিক্ষার্থী সংখ্যার ভিত্তিতে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। আলাদা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মহানগর ও মহানগরের বাইরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য।

শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭০০ বা তার বেশি হলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত হবে। ৪০০ থেকে ৭০০ মধ্যে হলে ‘বি’ এবং ৪০০ নিচে হলে ‘সি’ ক্যাটাগরিভুক্ত হবে।

মহানগর এলাকার ‘এ’ ক্যাটাগরির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা এবং ভর্তি ও সেশন ফি সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা নিতে পারবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মহানগরের বাইরে হলে সর্বোচ্চ বেতন হবে ১৫শ টাকা এবং ভর্তি ও সেশন ফির সর্বোচ্চ সীমা ১৫ হাজার টাকা।

‘বি’ ক্যাটাগরির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহানগর এলাকায় হলে সর্বোচ্চ মাসিক বেতন হবে ২০০০ টাকা এবং ভর্তি ও সেশন ফি হবে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা। মহানগরের বাইরে হলে সর্বোচ্চ মাসিক বেতন হবে ১০০০টাকা এবং ভর্তি ও সেশন ফি হবে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা।

‘সি’ ক্যাটাগরির মহানগর এলাকার প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ বেতন নেয়া যাবে ১৫শ টাকা এবং ভর্তি ও সেশন ফি নেয়া যাবে ৮ হাজার টাকা। এই ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান মহানগরের বাইরে হলে সর্বোচ্চ মাসিক বেতন হবে ৮০০ টাকা এবং ভর্তি ও সেশন ফি হবে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা।

নীতিমালায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই মান সম্মত শিক্ষক, শিক্ষা উপযোগী ভৌত কাঠামো, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন সুবিধা, খেলাধুলার সরঞ্জাম ও সুবিধাদি, নিরাপদ পরিবেশ ও সার্বক্ষণিক বৈদ্যুতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়, শিক্ষাবর্ষ শুরুর পূর্বে পরিচালনা কমিটির সভা আহ্বান করে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করতে হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শূন্য আসন সংখ্যা উল্লেখপূর্বক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করবে। ভর্তি কমিটি জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকায় এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারে ব্যবস্থা নেবে।

আবেদন ফরম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে সংগ্রহের বিধানের পাশাপাশি ওয়েবসাইট থাকলে ডাইনলোডের সুযোগের কথাও এতে বলা হয়েছে।

আবেদন ফরম বিতরণ ও জমার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সুস্পষ্ট তারিখ ও সময় উল্লেখ করতে হবে। বিতরণের জন্য ন্যূনতম ১৫ দিন সময় দিতে হবে। আবেদন জমা দেয়ার সময় জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি সংযুক্ত করে দাখিল করতে হবে।

আবেদন ফরমের জন্য মহানগরের প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নিতে পারবে বলেও ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে।

আবেদন ফরম জমা দানের সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃক শ্রেণিভিত্তিক বিক্রয়কৃত ও জমাকৃত আবেদন ফরমের সংখ্যা নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কাছে প্রেরণ করতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাস নম্বর পাওয়া সাপেক্ষে সরকারি নীতিমালা অনুসারে শতকরা ৫ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ২ ভাগ প্রতিবন্ধী কোটা সংরক্ষণ করতে হবে।

জাবেদ ফারুক নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি করে হাই কোর্ট গত ২৩ এপ্রিল ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের বেতন ফি নিয়ে রুল দেয়।

রুলে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্লে গ্রুপ থেকে এ লেভেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন, পুনর্ভর্তি ফি বা সেশন চার্জ আদায়ের বিষয়ে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চায় আদালত।

পাশাপাশি মাসিক বেতন, ভর্তি ও পুন:ভর্তি ফি বা সেশন চার্জ আদায় তদারকি করতে একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানাতে বলা হয়।

শিক্ষা সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঢাকা শহরের প্রথম সারির ২৩টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

এই মামলার আইনজীবী জে আর খান রবিন জানান, আদেশে হাই কোর্ট ২৪ স্কুলকে পুনঃভর্তি ফি ও সেশন ফি গ্রহণ না করতে নির্দেশনা দিয়েছিলো। পরে আপিল বিভাগে গিয়ে একাধিক স্কুল তাদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করিয়ে নেয়।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কেএম মাসুদ রুমীবলেন, “নীতিমালাটি দেশের সকল ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও কলেজের জন্য করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের অনেকেই অনেক টাকা ফি নিয়ে থাকে। আদালতের নির্দেশনার পরও অনেকেই তা মানছে না বলে পত্র-পত্রিকায় আমরা দেখেছি।”

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগেও এ ধরনের নীতিমালা করতে সরকারের প্রতি হাই কোর্টের নির্দেশনা ছিল। ওই নির্দেশনা অনুসারে নীতিমালা প্রণয়নে ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি সরকার একটি কমিটিও করে।#

 

আরএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট