বাংলা ভাষা ব্যবহারে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মানছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

বাংলা ভাষা ব্যবহারের উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও তা মানছে না দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তারা তাদের ইচ্ছামতো ইংরেজি ভাষাতেই ভর্তির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় চালিয়ে যাচ্ছে।

আদালতের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তাগাদা সত্ত্বেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এবং নথিপত্র ও সাইন বোর্ড ইংরেজি ভাষায় বহাল রাখা হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না।

বাংলা ভাষা নিয়ে রিটকারী আইনজীবী ড. ইউনূস আলী আকন্দ বলেন, “আদালত যে রায় দিয়েছে তা বাস্তা্য়ন না করলে আদালতের রায় অনুযায়ী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হবে।”

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী সম্প্রতি বলেন, আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কাজ চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সব অধিদফতরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলা ভাষা ব্যবহার এবং ওয়েবসাইডসহ সাইন বোর্ড বাংলায় লেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ইংরেজির পাশাপাশি তাদের বাংলার ব্যবহার করতে হবে। যেসব বেসরকারি বিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষা ব্যবহার করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।এজন্য প্রয়োজনে আবারো আদালতের নির্দশনা চাওয়া হবে।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে, ক্লাস রুটিন, ছাত্রছাত্রীদের আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইংরাজিতে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ছাত্রছাত্রী ভর্তির বিজ্ঞপ্তির এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন বোর্ড ইংরেজিতে লেখা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারী ইউনিভার্সিটির অনার্স তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ইংরেজি শিখতে হবে, তবে সব ক্ষেত্রে নয়, আগে আমাদের মাতৃভাষাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছুতে ইংরেজি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ইচ্ছামতো ইংরেজি ভাষাতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৮১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এরমধ্যে কয়েকটি সরকারের আদেশে বন্ধ রয়েছে। কয়েকটির ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে আদালতে মামলা রযেছে।

গত ২৯ এপ্রিল রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ১৫ মের মধ্যে দেশের সব অফিস-আদালতসহ সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে সময় বেঁধে দেন। একই সঙ্গে বাংলা পত্রিকায় বাংলায় বিজ্ঞাপন ও ইংরেজি পত্রিকায় ইংরেজিতে বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে সব বিদেশি ভাষার বিজ্ঞাপন এবং গাড়ির নম্বর প্লেট বাংলায় পরিবর্তনের জন্য নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

জনপ্রশাসন স্থানীয় সরকার, আইন, শিক্ষা, তথ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা হয়েছে। সরকারি দফতর, অধিদফতর, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়-বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহারের পদক্ষেপ জানাতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা মেয়রদের এ ব্যাপারে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের সব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ও ব্যানারে বাংলা ভাষা ব্যবহারে স্থানীয় সরকার বিভাগকে বলা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির নম্বর প্লেটে বর্তমানে বাংলা ব্যবহার হচ্ছে। এ বিষয়ে আরো পদক্ষেপ নিতে বিআরটিএকে বলা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ইংরেজি বিজ্ঞাপন এবং মিশ্র ভাষা ব্যবহার এড়াতে তথ্য সচিব পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি আরো উদ্যোগী হবেন।তবে,ভাষা শুদ্ধতায় বাংলা একাডেমিকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

এক্ষেত্রে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানে নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে বাংলা একাডেমিকে এগিয়ে আসতে হবে।

পছন্দের আরো পোস্ট