বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি অনুসন্ধানে বিব্রতকর পরিস্থিতি

images (3)বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির তথ্য অনুসন্ধানে নেমে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সঠিক তথ্য চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো তথ্য ছকের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় না সূচক জবাব দিয়ে তথ্য ছক পাঠিয়েছে। দুর্নীতিতে নিমজ্জিত কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক তথ্য না দিয়ে বরং নিজেদের দ্বন্দ্বের বিব্রতকর তথ্য পাঠিয়েছে। আর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আইন আদালতের অবস্থান দেখিয়ে সনদ বাণিজ্যের সুযোগ খুঁজছে। এ ছাড়াও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য সঠিক নয় বলেও তথ্য ছকের নিচে আলাদা করে মন্তব্য লিখে পাঠিয়েছেন অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ঘুষ-দুর্নীতিসহ ছয় ধরনের তথ্য বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়ে একটি তথ্য ছক ই-মেইল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল।সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তাকে কুমিল্লার একটি বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে বলে তথ্য প্রদান করেছে। তবে ইউজিসির যেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় কর্মরত নন। তা ছাড়া অধিকাংশ তথ্যই এলোমেলোভাবে দেওয়া হয়েছে। যেগুলোর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই বলেও মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ঘুষ লেনদেনের যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে, সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের জন্য সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনা হয়। বৈঠকে দুর্নীতির বিষয়গুলো তাদের মুখে শোনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নানা দিকনির্দেশনা তাদের কাছ থেকে চাওয়া হয়। এদিকে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

কিন্তু এ পদক্ষেপ যদি লোকদেখানো এবং দায় এড়ানোর জন্য হয়, তাহলে জাতির কোনো উপকারে আসবে না বরং উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুর্বৃত্তায়ন অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, ৩০ জুন টিআইবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বেসরকারি খাতের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে অন্তত ৬০ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি, ১১ খাতে ঘুষবাণিজ্য, সনদ বাণিজ্যসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।

 

পছন্দের আরো পোস্ট