পরীক্ষার নয় মাসেও প্রকাশ হয়নি ফল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর দুই বছর এবং পরীক্ষার নয় মাসেও প্রকাশ হয়নি। এ নিয়ে প্রায় ১০ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও কবে নাগাদ ফল প্রকাশ করা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
pebতবে, আগামী ৫/৭ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে সরকারি শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় নয় লাখ ৬৮ হাজার ১২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। অভিযোগ তদন্তে ওই বছরের ১২ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
কমিটির তদন্তে ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, কক্সবাজার, লালমনিরহাট ও নারয়ণগঞ্জ জেলায় ‘হুয়াংহু’ সেটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ মেলে।
এছাড়াও সাতক্ষীরা, পাবনা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, মেহেরপুর, খুলনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ‘মেসিসিপি’ সেটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে ওই ১৭ জেলায় পরীক্ষা বাতিল করে ফের ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন এবং কোটা প্রার্থীদের জন্য ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুল শিক্ষকদের নিয়োগ এবং নিয়োগ বিধির ৭(খ) ধারার জটিলতায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
ওই ধারায় মুক্তিযোদ্ধা-পোষ্য কোটার সংশ্লিষ্ট থানা-জেলায় পদায়নের বিষয়টি সুরাহা করে আগামী ৫/৭ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। প্রায় সাত হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০১২ সালের ২ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৩) আওতায় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান বাদে দেশের সব জেলা থেকে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
অন্যদিকে, ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে এ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিলম্ব হবে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
সঃ সুউ ফয়সাল
পছন্দের আরো পোস্ট