হাবিপ্রবিতে বৃত্তির টাকা প্রদানে গড়িমসি, আন্দোলনের ফলাফল শোকজ

main-academicদিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি সেমিষ্টার কৃতকার্য ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করার নিয়ম থাকলেও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা গত দুই বছর ধরে সেমিষ্টারের বৃত্তির টাকা পাচ্ছেন না । বৃত্তির টাকার দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা বেশ কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার প্রধান এটিএম শফিকুল ইসলামের সাথে দেখা করে কিন্তু স্যারের আশ্বাস শুধু আশ্বাসই হয়ে থাকে।

প্রতি সেমিষ্টারের রেজাল্ট প্রকাশের পরপরই বৃত্তির টাকা প্রদান করার নিয়ম কিন্তু ছাত্ররা প্রথম বর্ষ ২য় সেমিষ্টারের টাকা ৩য় বর্ষে উঠেও পায়নি। শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা দীর্ঘদিন ব্যাংকে রেখে সুদ প্রাপ্তির ব্যাপর ক্যাম্পাসে সবার মুখে মুখে। এই নিয়ে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৬-৭-২০১৪ তারিখে হিসাব শাখার কথা বলতে হিসাব শাখায় গেলে কর্মচারী তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করে এবং বলেন টাকা কবে পাবে আমি জানি না, আমি ফাইল সাইন করতে পারব না। কর্মচারীর এইরুপ দূর্ব্যবহারে ছাত্ররা হিসাব শাখার প্রধান এটিএম শফিকুল ইমসলামের সাথে দেখা করে টাকা প্রাপ্তীর সম্ভাব্য সময় জানতে চায় তিনি নির্দিষ্ট সময় জানাতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন ‘‘টাকা একাউন্টে নেই কবে দেওয়া হবে এ ব্যাপারে বলতে পারছি না, তোমাদের কমপ্লেইন থাকলে ইউজিসি তে যাও।

এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের নানা হুমকী দেন। এসময় বিশ্বাবিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টাও শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। আন্দোলন থামাতে ও বৃত্তির টাকা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার বিবিএতে অধ্যয়নরত তিন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাও নোটিশ জারী করেন। নোটিশে তাদের উপর শিক্ষকদের লাঞ্জিত করার অভিযোগ তোলা হয়।

এ বিষয়ে ঘটনা স্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় আমরা ন্যায্য দাবি নিয়ে বিভাগের সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকদের কাছে যাই। বৃত্তির টাকার দাবিতে কথা বলতেই শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

শিক্ষকদের সাথে কথা বলার সময় ক্লাসের সব শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও শুধু তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব ৭ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এটিএম শফিকুল ইসলামের নিকট জমা দিতে বলা হয়। প্রক্টর এটিএম শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, হিসাব শাখার প্রধান ও প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে একসাথে ৩-৪ টি গুরুপ্তপূর্ণ পদ দখল করে আছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্বারাই এ ধরনের কারন দর্শানোর নোটিশ পুরো প্রক্রিয়াটিতে ধোয়াশা ও পক্ষপাতিত্বের সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি অবিলম্বে তিন শিক্ষার্থীদের উপর আনিত মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৃত্তির টাকা প্রদান করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পছন্দের আরো পোস্ট