সুচিত্রা সেনের বাড়ি থেকে গাযযালী ইন্সস্টিটিউট অপসারণ

Pabnaদীর্ঘ প্রায় তিন যুগ পর বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নায়িকা সুচিত্রা সেনের পাবনার গোপালপুরের পৈতৃক বাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। ইমাম গাযযালী ইনস্টিটিউট নামের প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদ করে বাড়িটির দখল নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনির নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাড়িটি দখলে নেয়।

বাড়িটি দখলমুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে পাবনার সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্থানীয় জনগণ আন্দোলন করে আসছিল। প্রশাসন বাড়িটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও আইনি জটিলতায় তা বার বার বাধা প্রাপ্ত হয়। ১০ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট থেকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে বাড়িটি দখলমুক্ত করার সকল প্রতিবন্ধকতার অবসান হয়।

ইতিমধ্যেই সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় বাড়িটিতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিছেন সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালের ১৮ জুন ইমাম গাযযালী ট্রাস্ট বাড়িটি স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়ার আবেদন করে। ওই বছরের আগস্টে ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের স্থায়ী বন্দোবস্ত না দিয়ে আবারও বাৎসরিক ইজারা দেয়। পরে ইজারার টাকা পরিশোধ না করায় ১৯৯৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ইজারা বাতিল করা হয়। কিন্তু জামায়াত নেতারা বকেয়া পরিশোধ সাপেক্ষে ১৯৯৫ সালের ১৫ আগস্ট আবার ইজারা নবায়ণ করেন। তারপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক বাড়িটি।

Pabna-2

পাবনার সাংস্কৃতিক ব্যক্তি জাকির হোসেন বলেন, বাড়িটি মুক্ত করার জন্য গত ১০ বছর ধরে সকল স্তরের মানুষ আন্দোলন করছিল। সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ এবং সুধীজন কর্তৃক গঠিত হয় সুচিত্রা সেন স্মৃতি পরিষদ। বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের দাবি করে আসছে তারা। সুপ্রিম কোর্ট বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে সুচিত্রা সেনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ কেন্দ্র করার নির্দেশ দেয়।

ইমাম গাযযালী ট্রাস্টের সেক্রেটারি আবিদ হাসান দুলাল জানান, আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই আমরা সেখানকার স্কুলটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি।  এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন জানান, উচ্চ আদালতের আদেশানুযায়ী বুধবার সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি থেকে গাযযালী ইন্সস্টিটিউট অপসারণ করে বাড়িটির বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাড়িটির নিয়ন্ত্রণভার জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে।

স: ইএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট