জাবির নতুন ৪ বিভাগে নেই শিক্ষক-ক্লাসরুম

JUজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২-১৩ সালে নতুন চারটি বিভাগ খোলা হয়েছে। এগুলো হলো আইন ও বিচার, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস্ ও চারুকলা। এর মধ্যে আইন ও বিচার, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস্ চালু হয় ২০১২ সালে, তৎকালীন ভিসি ড. শরীফ এনামুল কবিরের সময়ে।

এবং সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের সময় ২০১৩ সালে খোলা হয় চারুকলা বিভাগ।

শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব বিভাগ খোলা হলেও বিভাগগুলো পাচ্ছে না তাদের নুন্যতম ক্লাসরুম সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের ল্যাব বা থিওরির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা পাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

নতুন এ বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বাস্তুর মত ক্লাস করতে হচ্ছে। ২০১৩-’১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের তো জায়গাই হচ্ছে না; এর ওপর ২০১৪-’১৫ শিক্ষবর্ষের নতুন শিক্ষার্থীরা এলে কোথায় ক্লাস করবে এ কথা ভেবে সবাই শঙ্কিত।

নতুন বিভাগের শিক্ষকেরা দক্ষতার সঙ্গে ক্লাস নিতে চেষ্টা করলেও ক্লাসরুম সংকটের কারণে কোর্স শেষ করতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

আইন ও বিচার বিভাগের সমস্যা সম্পর্কে এ ৪১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পিয়াল বলেন,“একটি অনুষদ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকট সমাধান করতে প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। খুব দ্রুত এই সকল সংকট দূর করতে প্রশাসনের নিকট আবেদন জানাচ্ছি”।

জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সমস্যা সম্পর্কে এ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিদ বসুনিয়া বলেন,“অতি প্রয়োজনীয় হওয়া সত্ত্বেও এই বিভাগে আমরা প্রয়োজনীয় ল্যাব বা প্রাক্টিক্যাল করার কোনো সুযোগই পাচ্ছি না যা আমাদের পড়াশোনাকে বিঘ্নিত করছে। এই নতুন কলা ভবনে থেকেই অবিলম্বে আমরা আমাদের সব সুযোগ-সুবিধা চাই।”

পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সমস্যা সম্পর্কে এ বিভাগের শিক্ষার্থী কনক আখতার বলেন,“ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা আমাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম শঙ্কিত”।

চারুকলা বিভাগটিতে পেইন্টিংয়ের জন্য নেই আলাদা কোন কক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনরকম ক্লাস করতে পারলেও তাদের ড্রয়িং ক্লাসগুলো করতে খুব অসুবিধা হয়। তাছাড়া চারুকলা বিভাগের ২টি বর্ষের আটটি কোর্স সম্পন্ন করতে শিক্ষক আছেন সভাপতিসহ মাত্র তিনজন।

চারুকলা বিভাগের সমস্যা সম্পর্কে এ বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী বাঁধন বলেন,“আমাদের বরাদ্দকৃত দুটি কক্ষের একটিতে ক্লাস করলেও তা যথেষ্ট পরিমাণ বড় নয়। ড্রয়িংয়ের জন্য যে খোলামেলা জায়গার দরকার হয় তাও পাওয়া যায় না। ফলে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষার পর নতুন শিক্ষার্থীরা আসলে আমরা কোথায় ক্লাস করব তাও জানি না।”

নতুন বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম সংকট, একাধিক কোর্সের ক্লাস নেয়া, নিজেদের অফিস কক্ষ সংকটসহ নানা রকম সমস্যায় আছেন। শিক্ষকেরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন যাতে করে খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যার সমাধান হয়।

এ সম্পর্কে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি মাসরুর শাহিদ হোসেন বলেন, “পূর্ব পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ রুম ও শিক্ষক ছাড়া কোনো সময়েই এমন নতুন বিভাগ খোলা উচিৎ নয়। এভাবে একটি বিভাগ চালু করা হলে পরবর্তীতে তা আস্তে আস্তে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে ভেবে বিভাগগুলো চালু করা হয় যা অনাকাঙ্খিত।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলী উদ্ভুত পরিস্থিতিকে “কিছু সীমাবদ্ধতা” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলা হলে তাতে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকেই। আমরা দ্রুত এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি।”

জীববিজ্ঞান অনুষদ ও নতুন কলা ভবন বর্ধিত করার কাজ চলছে; কাজ দ্রুত শেষ করে এই সংকট দূর করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স: ইএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট