বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রস্তাব

pic-21_100683বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনিয়ম ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসির কলেবর বৃদ্ধি, বিভাগীয় শহরে শাখা স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এসব প্রস্তাব করেছে ইউজিসি। প্রতিবেদনে সরকারের অসহায়ত্ব ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

প্রতিবেদনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ২০ ধরনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিম্নমানের শিক্ষাদান, শিক্ষার নামে সার্টিফিকেট বাণিজ্য, অননুমোদিতভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনা, অস্বাভাবিক টিউশন ফি নেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমাকৃত স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থেকে অর্থ উত্তোলন বা সেখান থেকে ঋণ গ্রহণ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব, স্বল্প পরিসরে ক্যাম্পাস, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে জটিলতা, মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরির অভাব, গবেষণা খাতে অনীহা, স্থায়ী সনদ গ্রহণে অনাগ্রহ, সরকার ও ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণে অনীহা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুসরণে অনীহা।
দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৯টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ১৪ হাজার ৬৪০ জন। ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছে ১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্বে জর্জরিত তিন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার শর্ত পূরণ করছে মাত্র ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার ফলে বিদ্যমান অনিয়মগুলো দূর করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। অনিয়ম বন্ধের ব্যাপারে কমিশনের নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রমের ব্যাপারেও অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকার ও কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বনিম্ন ২৫ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেসে পরিচালিত হবে- এ ধরনের অবশ্য পালনীয় শর্ত পূরণ করা হলেও বহুতল অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের পরিসর অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এমনকি ট্রাস্টিজের সদস্যরা পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছে। ট্রাস্টি বোর্ডের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যয় দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে ফি কমানো এবং ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার নিয়োগ দিতেও অনীহার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর বিভিন্ন ধারায় বর্ণিত নীতিমালা এবং অবশ্য পালনীয় বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে মেনে চলে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক সনদ/স্থায়ী সনদ বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।  এ ছাড়া প্রতিবেদনে ইউজিসির সামগ্রিক কলেবর ও লোকবল বৃদ্ধি, বিভাগীয় শহরগুলোতে শাখা কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অননুমোদিত ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবৈধ ক্যাম্পাস উচ্ছেদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পছন্দের আরো পোস্ট