শিক্ষক সমাজ দ্বারাই শিক্ষানীতি প্রণীত হওয়া উচিত

kasem1যারা শিক্ষা দান করছেন অর্থাৎ সেই শিক্ষক সমাজ তাদের দ্বারাই এই শিক্ষানীতিটা প্রণীত হওয়া উচিত এবং সেক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, কারীগরি শিক্ষা বা অন্যান্য যতরকম শিক্ষা আছে সবগুলো সেক্টর থেকেই প্রতিনিধি নিয়ে এই শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য আমার মনে হয় যে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। শিক্ষানীতির অন্যান্য অনুসঙ্গের মধ্যে একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। তা হলো শিক্ষক কারা? সাধারণত যারা মেধাবী তারাই কিন্তু এই শিক্ষকতা পেশায় আসেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আমরা যখন শুনেছিলাম যে যার নাই কোন গতি সে করে ওকালতি কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি যে কোথাও কোন চাকরি যে পাচ্ছে না সে তখন মাস্টারীতে এসে ঢুকছে। কারণ অন্য জায়গায় চাকরি নেয়ার যোগ্যতাটা তার নেই। তাহলে এই শিক্ষানীতির ভেতরে এমন কিছু থাকা উচিত যে কেউ চাইলেই সে শিক্ষকতা পেশায় আসতে পারবে না। তাকে এ পেশায় আসতে হলে কোন পরীক্ষা, এক্রিডিডেশন বা কোন রকম স্বীকৃতি থাকতে হবে তার যোগ্যতার। তা না হলে সে এই শিক্ষকতা পেশায় আসতে পারবে না। আবার একটা প্রশ্ন আসছে-এই মেধাবী লোকগুলো কেন শিক্ষকতা পেশায় আসবে? তাহলে মেধাবী লোকগুলোকে যদি আকর্ষণ করতে হয়, ধরে রাখতে হয় তবে তাদের জন্য আলাদা কোন বেনিফিটের ব্যবস্থা করতে হবে। যে একটি ছেলে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছে সে যদি অন্য কোন চাকরীতে জয়েন করে আর সেখানে যদি তার ১০ হাজার টাকা বেতন হয় তবে সে শিক্ষকতায় আসলে ১৫ হাজার টাকা বেতন পাবে। তাহলে সে ডেফিনিটলি আসতে আকৃষ্ট হবে যে, ওখানেতো বেতন/সুযোগ-সুবিধা বেশি। পাশাপাশি সমাজসেবা এবং শিক্ষকের মর্যাদা-সবই আছে, অতএব আমার জন্য শিক্ষকতাই সব থেকে ভাল। সুতরাং, এ বিষয়টি আমার মনে হয় শিক্ষানীতিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। আমরা সবাই জানি এদেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুব বেকার।

আমি শুধু একটি বাস্তব উদাহরণ দিতে চাই-যেমন টেক্সটাইল একটা সেক্টর। আমরা বস্ত্র খাত বলি। এই খাতে সাড়ে চার হাজার বিদেশী আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে চাকরি করছে। অথচ আমাদের লোকরা বেকার। তাহলে এই সাড়ে চার হাজার লোক কিভাবে আসলো, কেন আসলো? কারণ, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতো বসে থাকবে না। একটা লোক যখন ইন্ডাস্ট্রি করে, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সেতো সেটি বন্ধ রাখবে না। সে দুনিয়ার যেখানে যোগ্য লোক পাবে সেখান থেকেই নিয়ে এসে তাকে দিয়ে কাজ করাবে। এখন আমার দেশের লোক পারছে না। সুতরাং, আমাদের দেশে যে লেখাপড়াটি পরিচালিত হচ্ছে সেটি, যেখাতে এমপ্লয়মেন্টের প্রয়োজন আছে, ঐ দিকে কিন্তু আমাদের ম্যান পাওয়ার খুবই দুর্বল। এই যে প্রয়োজনীয় খাতে আমরা এদেশের দক্ষ জনশক্তি পাচ্ছি না কেন? কারণটা হচ্ছে, আমাদের দেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থাগুলো আছে সেখানে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করার মতো সেই শিক্ষার পরিবেশ আমরা বজায় রাখতে পারছি না। শিক্ষার মান বজায় রাখতে পারছি না। আজকে যদি আমরা তাকাই যে এদেশের কয়টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা কিছু শিখে বের হচ্ছে? এ প্রশ্নটা যদি আমরা রাখি তাহলে আমারতো মনে হয় যে, যেখান থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেয়া হয়, এরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কোন পার্সেন্টেসে আসবে না। তাহলে আমরা যেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে পারছি না সেখানে আমরা দক্ষ জনশক্তি কিভাবে সৃষ্টি করবো? সুতরাং, আমাদের শিক্ষানীতির ভেতরে এমন কিছু থাকার দরকার আছে যাতে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যেন মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণ করে ছেলে মেয়েরা বের হতে পারে।

আর বিদেশে উচ্চ শিক্ষার প্রসঙ্গে বলতে হয় যে, অবশ্যই বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য আমাদের দেশ থেকে যেতে হবে, যাওয়ার দরকার আছে। আমরা চাই বা না চাই মানুষ যাবেই এবং উচ্চশিক্ষা নিয়ে আসার পরে আমাদের যে অভিজ্ঞতা তাতে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটা লোক যে বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ফিরে এসেছে, তার স্কিল্ডনেসটা, তার আউটলুকটা, তার চিন্তা চেতনা অনেক কিছুতেই ভিন্নতা এসেছে। ডেফিনিটলি হি ইজ বেটার। সুতরাং বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়টি রাখতে হবে। এটি না রাখলে আমরা এমনিতেই তো পিছিয়ে আছি আরো পিছিয়ে যাবো। আমি মনে করি, বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে যোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা থাকাতো উচিৎ নয় বরং তাদের আরো কিভাবে সহায়তা দেয়া যায় এই বিষয়গুলোও আমাদের শিক্ষানীতি বা শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় আনা দরকার।

 

ধ্যা কাশেম।  অধ্যক্ষ, কলেজ অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি, ঢাকা

পছন্দের আরো পোস্ট