রমজান মাস যেন আনন্দ-দূঃখের মেলা

রমজান মাস যেন আনন্দ-দূঃখের মেলা বয়ে নিয়ে এসেছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। পরিবার ও স্বজনদের ছেড়ে একা ক্যাম্পাসের বন্ধুদের নিয়ে সেহরি ও ইফতার আনন্দের সাথে উপভোগ করছে তারা।

 

935867_420174141435649_1260812818_nঅপেক্ষা শুধু ঈদুল ফিতরের ছুটির জন্য। তবে বন্ধুদের সাথে রোজা পালনের অভিজ্ঞতাকে প্রতিদিনের উৎসবের মত মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। সবাই বাজার থেকে কিনে অথবা বাসা কিংবা মেসের খালার মাধ্যমে অথবা নিজেরা বানিয়ে আনন্দের সাথে ইফতার পর্ব সম্পাদন করে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে পাশের এলাকায় বসবাসরত ছাত্র-ছাত্রীদের কেন্দ্র করে এলাকাগুলোতে জমে উঠেছে ইফতার বিক্রির জমজমাট বাজার। শিক্ষার্থীরাও ভাল উপকৃত হচ্ছে এ থেকে।

 

প্রতিদিন একে অন্যকে দাওয়াত দিয়ে বা ক্যাম্পাসে সবাই মিলে ইফতারি করে আনন্দের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলছেন তারা। এ কারণে বাড়িতে না থেকে কষ্ট করে ইফতারি করেও ভাল আছেন তারা।

 

এ বিষয়ে মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঙ্গিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী এইচ এম মোহাইমেন মুন্না জানান-“বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এই প্রথম বাবা-মাকে ছাড়া রোজা পালন করছি। অনেকটা মিশ্র অনুভূতি। বন্ধুদের সাথে আনন্দও লাগে আবার বাবা-মাকে ছাড়া খারাপও লাগে।”

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান রনি বলেন-“অতটা খারাপ লাগে না। কারণ সবার সাথে ইফতারটা উপভোগ করার চেষ্টা করি। তবে ইফতার বা সেহরীর সময় বাড়ির পরিবেশটাকে অনেক মিস করি।”

 

সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম  বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদেমুল ইসলাম জানান-“আমরা বাইরে থেকে কিনে সবাই একসাথে বসে ইফতার করি। ব্যাপারটা খুব আনন্দদায়ক বলে মনে হয়। আর বাসায় তো অনেকদিন ছিলাম। এখন নতুন পরিবেশে নতুনভাবে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ভালই লাগছে।”

 

আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সোমা সুলতানা বলেন-“ইফতার আমরা নিজেরাই বানাই তারপর সবাই আনন্দের ইফতার করি। তবে রোজা শুরু হবার প্রথম কয়েকদিন খুব খারাপ লেগেছিল। বিশেষ করে প্রথম দিনটা। এখন অতটা খারাপ লাগে না।”

 

ফার্মেসী বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লাকী আক্তার জানান-“আমার খুব খারাপ লাগে। কবে ছুটি হবে আর কবে বাসায় যাব। বাবা-মাকে খুব বেশী মিস করি।”

 

সঃ সুউ ফয়সাল

 

পছন্দের আরো পোস্ট