মেধাবীদের ভর্তির আশ্বাসে অনশন সাময়িক স্থগিত

Naraynganjনারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি-বাণিজ্যের প্রতিবাদে সোমবার থেকে লাগাতার অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

জোটের নেতারা জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ সব মেধাবী শিক্ষার্থীকে ভর্তির নিশ্চয়তার আশ্বাসে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়কারী সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক সজল বাড়ৈ জানান, সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের ভর্তি-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের যে আন্দোলন তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। ভর্তি-বাণিজ্য ও অনিয়মের ফলে মেধাতালিকার ছাত্রীরা ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

ছাত্রলীগের ভর্তি-বাণিজ্যের প্রতিবাদে লাগাতার অনশনের ঘোষণা দেয়া হয়; কিন্তু সোমবার সকালে কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র সাহাসহ অন্যরা এসে মেধাবীদের ভর্তির নিশ্চয়তা দেন। এ কারণেই অনশন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

এ সময় কলেজে উপস্থিতি ছিলেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি জাহিদ সুজন, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড, ছাত্র ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলা সম্পাদক সুলতানা আক্তারসহ ছাত্র ইউনিয়নের ও জোটভুক্ত নেতারা।

কলেজটিতে মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান— এ তিন বিভাগ মিলিয়ে দুই হাজার ৪৫০টি আসন রয়েছে। আবেদন করেছে চার হাজার ২৫৫ ছাত্রী। মেধাতালিকা অনুযায়ী মানবিক বিভাগে জিপিএ-৩, বিজ্ঞান বিভাগে ৪ দশমিক ৫৬ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪ প্রাপ্তদের ভর্তি হওয়ার কথা।

ছাত্রীদের অভিযোগ, এর চেয়ে কম পয়েন্ট প্রাপ্তরা ভর্তি হলেও বেশি পয়েন্টধারী অনেককেই ভর্তি করা হচ্ছে না। অর্থের বিনিময়ে মেধাতালিকার বাইরে থেকে ভর্তি করার ফলে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক যোগ্য ও মেধাবী ছাত্রী। এর পর অধ্যক্ষ অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রায় ৬০০ জন এবং কলেজ প্রশাসন কর্তৃক নির্বাচিত অপেক্ষমাণ ২৯৫ জন মোট ৮৯৫ ছাত্রীর ফরম ছাত্রলীগের হাতে তুলে দেয়। এইভাবে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া ছাত্রলীগের হাতে চলে যায়।

স: ইএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট