প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কটূক্তির ‘প্রমাণ’ নেই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রাজীব হাসনাত শাকিলের কটূক্তির শক্ত ‘প্রমাণ’ নেই পুলিশের হাতে।

Shakil
সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযোগ পুরো বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এ শিক্ষকের সহকর্মী ও তার পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার বেসরকারি নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীবকে কটূক্তির অভিযোগে খুলনা থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে স্থানীয় পুলিশ।

 

নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব তদন্তে রাজীবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি, তারপরও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

 

শিক্ষক রাজীবের বিরুদ্ধে প্রথমে কটূক্তির অভিযোগ তোলেন তারই একজন ছাত্র । তিনি স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেন যে গত জানুয়ারী মাসে তিনি শ্রেনীকক্ষে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান , বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করেছেন ।

 

নর্দান বিশ্ববিদ্যোলয়ের খুলনা ক্যাম্পাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ার করিম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার খবর শুনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজে উদ্যোগী হয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেখানে রাজীবের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশও বলছে যে তাদের কাছে সরাসরি কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। কয়েকটি পত্রিকায় সংশ্লিষ্ট ছাত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। এরপর পুলিশ বৃহস্পতিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে এবং পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক করে ।

 

খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ বলেন, যে ছাত্র অভিযোগটি তুলেছে সেই ছাত্র এখন খুলনায় নেই। অভিযোগকারী ছাত্র খুলনায় আসলে তাকে জিজ্ঞাসবাদ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এখনও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি বলেও জানান ওসি।

তাহলে পুলিশ সেই শিক্ষককে কেন গ্রেফতার করেছে জানতে চাইলে ওসি মারুফ আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টা খুলনার স্থানীয় পত্রিকাসহ সারাদেশে প্রচার হয়েছে, সেজন্য ক্যাম্পাসের ভেতরকার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করেছি। নইলে মারাত্নক কোনো অঘটন ঘটতে পারতো’।

 

এ পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করছেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনার বিষয়ে সতত্যা পাওয়া যাওয়ায় সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে।‘ তবে কোনো ধরনের অডিও, ভিডিও কিংবা অন্য কোনো প্রমাণ না থাকলেও কিভাবে সেই সতত্যা পাওয়া গেলো সেটির কোনো ব্যাখা দিতে পারছেনা পুলিশ।

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের খুলনা ক্যাম্পাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ার করিম বলেন , ‘এটা একটা ষড়যন্ত্র । বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির কাছে কোনো ছাত্রছাত্রী এ কথা বলেনি যে শাকিল সাহেব এ ধরনের কথা ক্লাসে বলেছেন । তিনি কোনো অন্যায় করেননি। আমাদের তদন্তে আমরা কিছু পাইনি।‘

 

এদিকে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক রাজীবের স্ত্রী ইসরাত জাহান লিনাও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে বর্ণনা করছেন।

 

ইসরাত জাহান লিনা বলেন , ‘আপনারা প্রত্যেক শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি এ ধরনের কোনো কথা বলেছেন কিনা? কোনো তদন্ত ছাড়াই একজন স্টুডেন্টের কথার ভিত্তিতে পুলিশ কিভাবে তাকে গ্রেফতার করলো?‘ সূত্র: বিবিসি।

 

 

স: ইএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট