ধীরগতিতে চলছে নার্সিং উচ্চ শিক্ষা প্রকল্প

ধীরগতিতে চলছে ‘এক্সপানশন অ্যান্ড কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট অব নার্সিং এডুকেশন’ শীর্ষক নার্সিং উচ্চ শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্প। জুলাই ২০১০ সালে প্রকল্প শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল জুন ২০১৪ সাল নাগাদ। ৪ বছর মেয়াদী অনুমোদিত প্রকল্পটি সাড়ে তিন বছরের বেশী সময় চলে গেলেও আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এখন প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে জুন ২০১৫ সাল।

downloadমূল প্রকল্পে ৩ হাজার ৩৬০টি ট্রেনিং ও ফেলোশিপ দেওয়ার কথা থাকলেও সংশোধিত প্রস্তাবে ১ হাজার ২২৭টি হ্রাস করে ২ হাজার ১৩৩টি ট্রেনিং ও ফেলোশিপ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একদিকে প্রকল্প যেমন স্লথ গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে অপর দিকে মূল প্রকল্প থেকে সংশোধিত প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ কাটছাঁট করা হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায়  শিক্ষক ও তৃতীয়-চতুর্থ  শ্রেণীর কর্মচারীদের কোয়ার্টার শেরে বাংলা নগরে `নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় এখন তা নির্মাণ করা হচ্ছে না।

এখন নতুনভাবে মহাখালীতে অবস্থিত সেবা মহাবিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় নির্মাণের জন্য সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে অরো পিছিয়ে যাবে প্রকল্পটি’র কাজ।

২০১৫ সাল নাগাদ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদফতর (ডিএনএস) জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০১৪ মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শুরু করে।প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১০০ কোটি টাকা। প্রকল্পে জাপানি ঋণ মওকুফ সহায়তা তহবিল (জেডিসিএফ) ১কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। প্রকল্প এলাকা শেরে বাংলানগর ও মহাখালি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।প্রকল্পটি’তে চলতি অর্থবছরে আরএডিপিতে মাত্র ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল যা, ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩০ ভাগ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে,  প্রকল্পে ১০ তলা ভিত বিশিষ্ঠ একটি ৭ তলা একাডেমিক  এবং প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। বর্তমানে ভবনটির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তা ১০ তলা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য ৬ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা ১০ তলায় পরিণত করা হবে। গণপূর্ত অধিদফতরের রেট সিডিউল পরিবর্তন হওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় সমন্বয় এবং প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের কিছু অঙ্গের অর্থনৈতিক কোডও পরিবর্তন করা হবে।

নার্সিং শিক্ষা ও সেবা শক্তিশালীকরণ কার্যক্রম করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। এর ফলে মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাস, শিশু স্বাস্থ্যে উন্নয়ন, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষুধা দারিদ্র দূরীকরণে এইসব উচ্চ শিক্ষিত নার্স সেবা দিয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচির(এইচপিএনএসডিপি) আওতায় নার্সিং সেবা পরিদফতর তাদের অপারেশনাল প্ল্যানও বাস্তবায়ন করছে প্রকল্পের আওতায়। এতে মানসম্পন্ন নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে নার্স ও ধাত্রীর অপ্রতুল মোকাবেলায়ও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট অব প্রজেক্ট প্রোপোজাল (ডিপিপি)তে দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মোট প্রায় ১৪ কোটি। এর বিপরীতে মোট রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সংখ্যা ৪৭ হাজার ২৫৯ জন এবং রেজিস্টার্ড নার্সের সংখ্যা ২৩ হাজার ৬৫০ জন।

হেলথ ওয়াচ রিপোর্ট অনুসারে দেশে বর্তমানে ২ লাখ  ৮০ হাজার নার্স রয়েছে। দেশে ক্লিনিক ও হাসপাতালের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধির কারণে নার্সের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকল্পটি সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হলে নার্সের চাহিদা পুরণে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

পছন্দের আরো পোস্ট