অর্ধকোটি টাকার ঘাটতি সত্বেও ইবিতে আরও নিয়োগের ছক। বেতন পাচ্ছে না ১০৯ জন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রায় ৫০ কোটি টাকা ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার চেয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা কম বরাদ্দ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। ফলে ৫০ কোটি টাকা ঋনের সাথে নতুন করে আরো মোটা অংকের আর্থিক ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ১০৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোনো বেতন-ভাতার অনুমোদন না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় নিয়োগের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

images (4)বুধবার দুপুর ২টায় ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের সভাপতিত্বে ভিসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেট পেশ করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ৫৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা অনুমোদন দিয়েছে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়। অবশিষ্ট ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছে ইউজিসি।

এবারের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে ৪৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা, পেনশন খাতে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, সরবরাহ ও সেবা খাতে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, সরবরাহ ও সেবা (শিক্ষা আনুষঙ্গিক) খাতে ৫ কোটি টাকা, মেরামত, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষন খাতে ৭০ লক্ষ টাকা, সম্পদ সংগ্রহ/ক্রয় খাতে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে ঘোষিত বাজেটে গবেষণা খাতে কোন বরাদ্দ না থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষকরা।

এবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার তুলনায় কম অর্থ বরাদ্দ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ৫ বছরের প্রতিবছরই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার চেয়ে ৬-৭ কোটি টাকা কম অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ফলে গত ৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে সীমিত বাজেট ঘোষনা করেছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঋনের পরিমাণ কাটিয়ে উঠা তো সম্ভব নয়ই। বরং ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়ে তা প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তারা মনে করছেন।

এছাড়া ২০১২ সালে সাবেক ভিসি ড. আলাউদ্দিনের মেয়াদকালে অনিয়ম-দূর্নীতি করে প্রায় দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর গণনিয়োগ দেয় তৎকালীন প্রশাসন। নিয়োগ প্রাপ্ত ওই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় ১০৯ জনের বেতন এখন পর্যন্ত অনুমোদন করেনি ইউজিসি।

ফলে নিয়োগ প্রাপ্ত ওইসব কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তিন বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ফান্ড এবং মাদরাসা ফান্ড থেকে দিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোনো বেতন বরাদ্দ না থাকায় দিনে দিনে বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ঘাটতি।

সেইসাথে পেনশন ফান্ড, মাদরাসা ফান্ড সহ অন্যান্য খাতের আর্থিক নিরাপত্তা পড়েছে হুমকির মুখে। প্রায় ৫০ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতি ও ১০৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুনোমদিত থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবারও গণনিয়োগের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগের জন্য ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির নেতা ও স্থানীয় চরমপন্থীরা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নানা ভাবে চাপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী ইউজিসি থেকে বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ বাড়বে।

তবে আর্থিক ঘাটতি যেমন এক বছরে তৈরি হয়নি, তেমনি তা একবছরে কাটিয়ে উঠাও সম্ভব নয়। গণনিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন,প্রয়োজন সাপেক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিয়োগের কাজ হাতে রয়েছে।

 

পছন্দের আরো পোস্ট