পাবলিক পরীক্ষায় বিরতি থাকছে না: শিক্ষামন্ত্রী

পাবলিক পরীক্ষার মধ্যে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্য কোনো বন্ধ রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

nurul_islam_nahid

চলতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র ও গণিত দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনটি ‘অসত্য’ বলে দাবি করেন নাহিদ।

এইচএসসির প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে বুধবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর এইচএসসিতে ৫৫টি বিষয়ে ১১০টি প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। তার মধ্যে কয়েকটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠন করা সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি ২৯ জুন তাদের প্রতিবেদন সরকারের হাতে জমা দিয়েছে। এতে ২টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত কমিটি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলেছে। অনেকে তদন্ত কমিটিকে প্রশ্ন ফাঁস হওয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রকে ধরার জন্য যে উৎসের তথ্য প্রয়োজন তা কেউই দেননি। এমনকি কোনো কোনো বিশিষ্টজন ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের নমুনা তদন্ত কমিটিকে সরবরাহ করেছেন; কিন্তু কোনো উৎস জানাতে তারা দৃঢ়ভাবে অপারগতা জানিয়েছেন। তবে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ফরিদপুরে গণিত দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্রের নমুনাসহ হাতে নাতে আবুল হাসান নামে এক ব্যক্তি আটক হয়েছে। তার বিরুদ্ধে (পাবলিক পরীক্ষাসমূহ অপরাধ আইন-১৯৮০ এর ৪ ধারা) মামলা হয়েছে। তাকে সঠিকভাবে জেরা করা হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে বলে কমিটি উল্লেখ করেছে।’

নাহিদ দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘এমন কোনো শক্তি নেই যা প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের খুঁজে বের করতে প্রয়োগ করা হবে না। তাদের আমরা চিহ্নিত করে কঠোর ও চরমতম শাস্তি দেব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘গত সাড়ে ৫ বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কিছুই আমরা গোপন করিনি। এটাই মন্ত্রণালয়ের ট্র্যাডিশন।’
শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, তদন্ত কমিটর প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসাইন, তদন্ত কমিটির সদস্য যুগ্মসচিব রুহি রহমান, আহসানুল জব্বার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 
পাবলিক পরীক্ষায় বিরতি থাকছে না
দেড় মাস-দু’মাস ধরে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এতে প্রশ্নের নিরাপত্তা বিধান করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখন থেকে দিনে দু’টি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদদের মতামত নেয়া হবে। কোনো রকম সরকারি ছুটি ছাড়া পরীক্ষার মাঝে আর কোনো বিরতি থাকবে না।’

 

‘টিআইবির প্রতিবেদন অসত্য’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনটি ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।

এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘টিআইবির প্রতিবেদনে আমরা বিস্মিত হয়েছি, প্রতিবেদনটি অসত্য। কারণ তারা বলেছে, গত দুই বছর ধরে তারা এ বিষয়ে গবেষণা করেছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে তারা কোনো আলোচনা করেনি।’

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্যও নেয়া হয়নি বলে জানানও শিক্ষামন্ত্রী।

গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি দাবি করেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্নভাবে ঘুষ লেনদেন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতির জন্য এক থেকে তিন কোটি টাকা এবং উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের অনুমোদনে ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা, স্থাপনা পরিদর্শনে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা, বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, বিভাগ অনুমোদনের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা, অনুষদ অনুমোদনের জন্য ১০-৩০ হাজার ও ভুয়া সার্টিফিকেটের জন্য ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়।

এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘টিআইবি’র প্রতিবেদন বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। ৫ তারিখের মধ্যে সব তথ্য সংগ্রহ শেষ করে আপনাদের (গণমাধ্যম) জানাবো।’

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ধ্যে আমরা নিশ্চিত হয়েছি ১৫টি প্রতিষ্ঠান প্রকৃতই সনদ বিক্রি করে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গিয়ে তারা রিট মামলা করেছেন। আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে। এই মামলাগুলোতে আমারা বর্তমানে লড়ছি।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘আমরা দায়িত্ব নেয়ার সময় ৫৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এইগুলো সবগুলোই ছিল ফ্ল্যাটে, আমারাই তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাস করতে বাধ্য করেছি। তাদের অনেকেই (ক্যাম্পাস) করেছেন, কেউ কেউ করছেন।’

 

স: ইএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট