শিক্ষার গুণগত মানে হতাশাজনক অবস্থায় বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

স্কুলে ভর্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূরীকরণে ব্যাপক অগ্রগতি হলেও শিক্ষার গুণগত মানে হতাশাজনক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ।

World-bank

শুধু বাংলাদেশ নয়, শ্রীলঙ্কা বাদে ভারত, পাকিস্তাসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই একই অবস্থা। এসব দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে গড় শিক্ষার মান খুবই নিম্ন পর্যায়ে। ফলে কর্মক্ষেত্রে  প্রবেশের জন্য যথাযথ দক্ষ হয়ে উঠতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

 

সোমবার ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক এ চিত্র তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক।

 

এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর বিস্তারিত সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীদের এক তৃতীয়াংশের মৌলিক অক্ষর ও সংখ্যা জ্ঞানে দুর্বলতা রয়েছে। শিক্ষকদের অবস্থাও উদ্বেগজনক। গ্রামীণ অঞ্চলে এমন অনেক শিক্ষক আছেন যারা ছাত্রদের তুলনায় সামান্য বেশি জানেন।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের গণিতে দক্ষতা খুবই নিম্ন পর্যায়ের। পঞ্চম শ্রেণীর দুর্বল ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণীর প্রথম দিকের ( ফলাফলের বিচেনায়) ২০ শতাংশের তুলনায় দক্ষতায় পিছিয়ে আছে। গণিতের পাশাপাশি ভাষাজ্ঞানে দুর্বলতাও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে রয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষার মান দুর্বল হওয়ার পেছনে শিক্ষকদের যোগ্যতার অভাবকে তুলে ধরা হয়েছে। বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের প্রসঙ্গও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলের তহবিলের জন্য টাকা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। স্কুল পরিচালনা কমিটি অনেক সময় তাদের আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ দেয়। ফলে যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ে যান। বিশ্বব্যাংক এই হতাশাজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে।

 

এগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পুষ্টি, শিক্ষকদের গুণগত মান বাড়ানো, শিক্ষাখাতে আর্থিক প্রণোদনা বাড়ানো, বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পরিমাপ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো।

 

 স: ইএইচ

পছন্দের আরো পোস্ট